Watch The Best Educational TV Live Programs & News Update Today

info@newbangla.tv


ডুমুর ফল যৌনশক্তি বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করে

ডুমুর একটি বেহেস্তী ফল ‘ডুমুরের ফুল’ না দেখলেও ‘ডুমুরের ফল’ দেখেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে অযত্নেই বেড়ে উঠতে দেখা যায় ডুমুর-গাছ। কিন্তু আপনি কি জানেন ডুমুর কতটা উপকারি? তাই আজকের আলোচনার বিষয় ‘ডুমুর’।আল্লাহতালা পবিত্র কোরআনে ত্বীন বা ডুমুর ফলের কসম খেয়েছেন। তার মানে ডুমুরে তিনি বিশেষ কিছু দান করেছেন! আদম-হাওয়া গন্ধম খাওয়ার পর উলঙ্গ হয়ে পড়লে যে গাছের পাতা দিয়ে লজ্জাস্থান আবৃত করেছিলেন সেটা ছিলো ডুমুর গাছ! এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে ত্বীন বা ডুমুর হলো জান্নাতী গাছ। যিশু ও গৌতম বুদ্ধও এ গাছের নিচে ধ্যান করেছিলেন।

ডুমুরের গুণাগুণ

এবার বলবো, ডুমুর খেলে কোন ৯টি রোগ থেকে মুক্তি পাবেন। কিন্তু তার আগে ডুমুরের কিছু গুণাগুণ জেনে নেব। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ডুমুরের পুষ্টিগুণ হচ্ছে ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম ও ক্যালরি। ভিটামিন এ, বি, সি ও অন্যান্য উপাদান যেমন- জলীয় ও খনিজ, শর্করা ও আমিষ, ক্যালসিয়াম ও চর্বি, লৌহ ও ভিটামিন রয়েছে।

ডুমুর খেলে যে ৯টি রোগ থেকে মুক্তি পাবেন

১. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ডুমুর পাতার চা খেলে ইনসুলিন-নির্ভর ডায়াবেটিক রোগীদের ইনসুলিনের চাহিদা ১২% কমে যায়। ডুমুর পাতার পলিফেনল একদম ইনসুলিনের মতো কাজ করে। আধা লিটার পানিতে ২ চামচ শুকনো ডুমুর পাতার গুড়া দিয়ে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে সেই চা পান করুন।

২.উচ্চরক্তচাপনিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত ডুমুর-ফল খেলে শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের সামঞ্জস্য রক্ষা হয়। ফলে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। জাপানী গবেষকরা বলেন, কোরআনে সরাসরি ১ বার ত্বীন বা ডুমুরের কথা বলা হয়েছে। তাই প্রতিদিন ১টি শুকনো বা পাঁকা ডুমুর খেলে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৩. ওজন কমাতে: মোটা শরীর নিয়ে আর দুশ্চিন্তা নয়। ডুমুর ফাইবার মেটা-বলি-জম ঠিক রাখে ফলে শরীরে বাড়তি মেদ জমে না। নিয়ম করে ডুমুর খেলে আপনার মোটা শরীর ধীরে ধীরে স্লিম ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। যেসব ছেলে-মেয়েরা স্লিম থাকতে পছন্দ করেন তাদের জন্য ডুমুরের কোনো বিকল্প নেই।

৪. হাড় মজবুত রাখে: হাড়কে মজবুত করতে শুকনো ডুমুর খুব উপকারী একটা শুকনো ডুমুর থেকে তিন শতাংশ পর্যন্ত ক্যালসিয়াম পেতে পারেন। এটা হাড়ের ঘনত্ব ধরে রাখে ও হাড়কে ভঙ্গুর হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। যারা হাঁড়ের সমস্যায় ভুগছেন তারা অবশ্য ডুমুরকে খাদ্য তালিকায় রাখুন।

৫. যৌনশক্তি বৃদ্ধি: নবদম্পতিদের জন্য সু-খবর।বিবাহিত জীবনে অনেক রকমের সমস্যা থাকতে পারে। প্রতিদিন ১টি ডুমুর খেলে যৌন শক্তি বৃদ্ধি পাবেই। সকালে ডিম ও ডুমুর পাতার চা এবং রাতে দুধের সঙ্গে ডুমুরের রস খেলে উপকার পাবেন। মাথা ঘোরা বা শরীর দুর্বল হলে ডুমুর ভাজি খেলে শক্তি ফিরে পাবেন।

৬. পাইলস দূর করে: ডুমুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ। ফলে পেটের সমস্যার জন্য ডুমুর খুব ভালো কাজ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যাও কমাতে সাহায্য করে।

৭. চুল পড়া বন্ধ: ডুমুরের প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন চুলকে মজবুত করে। চুল পড়া বন্ধ করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এছাড়া এর ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের স্বাভাবিক কন্ডিশনারের কাজ করে। যাতে চুলের ঘনত্ব বাড়ে এবং চুলকে মসৃণ করে তোলে।

৮. অনিয়মিত মাসিক: মেয়েদের অনিয়মিত মাসিক হলে অথবা রক্তপাত বেশি হলে ডুমুর ফল পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি খেলে উপকার পাওয়া যায়। বা বেশি রক্তস্রাব হলে কচি ডুমুরের রসের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন। দুধ ও চিনির সঙ্গে ডুমুরের রস খেলেও অধিক ঋতুস্রাব বন্ধ হয়।

৯. উজ্জল ত্বকের জন্য: ডুমুর গাছের ছাল পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের দাগ ও ক্ষত দূর হয়। ডুমুরের নিউট্রিশন ত্বককে ভালো রাখে। এতে উপস্থিত ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের কোমলতা রক্ষা করে। এছাড়া ডুমুরের এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের টকসিন দূর করে বলে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ত্বক।